মতাজের দিন – ১

এরকম একদিন সাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়ে ধুম বৃষ্টিতে সবুজ ভিজে জ্বরে আক্রান্ত হলো।
এমনকি সে রাতে ইয়াসমিনকে পড়াতেও পারল না।

জ্বরের কথা শুনে মমতাজ ও ওর শাশুড়ি ও নীচে নেমে এলো।
মাথায় হাত দিয়ে দুজনেরই চোখ কপালে। তাপে সবুজের গা পুড়ে যাচ্ছে।

মাথায় পানি দেওয়ার দ্রুত ব্যবস্থা করল মমতাজ। ওর শাশুড়ী সবুজের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ডাকল।
-কিরে সবুজ তর জ্বর কেমন লাগতাছে ?? জবাবে সবুজ শুধু তাকিয়ে উহ আহ বলে ককিয়ে উঠল।

মমতাজ ওর চাচাত ভাই ডাক্তার এর কাছে ফোন দিয়ে জেনে নিল যে শুধু প্যারাসিটামল প্লেইন খাওয়াতে তাও জ্বর বেশী উঠলে পরে। ওর ভাই এও বলে দিল যে, প্যারাসিটামল অনেক সময় খেতে যদি না চায়, জ্বরের ঘোরে বা জ্বর বেশি থাকলে – পায়ু পথ দিয়ে সাপোজিটর দিতে। মমতাজ সবুজের মাথায় পানি দিয়ে দ্রুত বোরকা পরে শহরে গিয়ে প্যারাসীটামল ও সাপোজিটর এনে ফ্রিজে রেখে দিল।

পরে একটু হালকা জ্বর কমে এলে ওর শাশুরী কিছুই খেতে চায় না দেখে জাউভাত রান্না করে শিং মাছের ঝোল দিয়ে বাটিতে করে নিয়ে এলো সবুজের রুমে।

মমতাজের মেয়েটা শোয় ওর দাদুর সাথে, দোতলার এক রুমে আর আরেকরুমে ছেলেটাকে নিয়ে থাকে মমতাজ । নীচের এই তিনটি রুম ফাকা থাকে। মেহমান কেউ এলে ব্যবহার হয়। তার মধ্যে একটা সবুজকে দেওয়া হয়েছে। যেটার সাথে এটাচড বাথরুম আছে।

সবুজকে বলতে গেলে জরিয়ে ধরে ওঠালো মমতাজ। মমতাজের বুকের উপর উঠে হেলান দিয়ে আছে — মমতাজের শাশুরী মানে সবুজের নানী সবুজকে নরম জাও দিয়ে শিং মাছের ঝোল চামচ দিয়ে মাখিয়ে খাওয়াতে লাগল- কয়েক চামচ খাওয়ার পরে আর সবুজের ভালো লাগছে না। সবুজ আর খেতে চায় না। মাথা ইশারা দিয়ে জানিয়ে দিল। টেবিলে রাখা ওর টুথ ব্রাশ ও পেস্ট টা দেখিয়ে নানীকে ইশারা করল।

আরো খবর  বাংলাদেশী সেক্স স্টোরি – বড় বোন

সবুজ উঠে বিছানা ছাড়তে চাইলে মমতাজ বলল
-ঠিকা আছে বাবা তুমি বও। আম্মা নিয়া আসুক। আম্মা সবুজের দাত মাজার ব্রাশ আর টুথপেস্ট টা দেন ।

জ্বরে বরং লবন টুথপেস্ট এর স্বাদটাই সবুজের কাছে ভালো লাগল। একটি গামলায় ও মগ ভরতি পানি নিয়ে এসে বিছানাতেই মুখ কুলি করে ধুয়ে নিল মমতাজ, ওর শাশুড়ির আঁচল দিয়েই মুখটা মুছিয়ে দিল। এক পাশে কাত হয়ে শুয়ে পরতে চাইলে মমতাজ মাথার নিচে বালিশ দিয়ে উঠে দাড়াল।

বউকে শাশুরী বলে উঠল-
-ও বউ ছেলেটার জ্বর তো অনেক বেশি তুমি বরং নীচেই থাকো। হাসান আজকে আমার সাথে থাকুক,ওরে উপর থাইক্কা নিয়া আসি একটু দুধ খাওয়াইয়া দেও। পরে আবার নিয়া যামুনে। সবুজরে মনে হয় রাইতে আবার মাথায় পানি ঢালতে হইতে পারে। আল্লাহ ওর কিছু হইলে ওর মায়রে আমি কি জবাব দিমু।
-আম্মা এত চিন্তা কইরেন না, ভাল হইয়া যাবে, আম্মা তাইলে আমি নিচেই থাকি।

হ হেইডাই বালা হইব হউ, আর ঔষধ পাতি সব কাছেই রাখো।
একটু পরে হাসানকে ওর দাদু কোলে করে নিয়ে এলে মার কোলে ঝাপিয়ে পরেই দুদু খুজতে লাগল।

Pages: 1 2